দাউ দাউ করে পুড়ছে দিল্লির মসজিদ; পুড়ছে মানবতা




দাউ দাউ করে পুড়ছে দিল্লির মসজিদ; পুড়ছে মানবতা। আগুনতো নয় যেন ফিনকি দেয়া রক্ত।মুসলিম তরুণীর কালো চুল থেকে শোকার্ত চোখে জল নয় সেই আগুনই ঝরে পড়ে। পুড়ে নয় প্রতিবাদে ঝলসে উঠে মুসলিম কিশোরের বজ্র হাত। পিতার লাশের পাশে বসে অবুঝ বালক বুঝতে চেষ্টা করে কেন তার পিতাকে হত্যা করা হোল? স্বামী হারিয়ে দুই নাবালক শিশু নিয়ে শোকস্তব্ধ পাথর হয়ে বসে আছেন এক মুসলিম নারী। পোড়া মসজিদের তাকে সারিবদ্ধ অগ্নিদগ্ধ আল কোরআন। এ যেন দিল্লির মসজিদ নয়, এ যেন প্রতিটি মানুষের অন্তর- অগ্নিদগ্ধ, রক্তাক্ত, শোকার্ত এবং ব্যাথিত ……………….

দিল্লীর দাঙ্গা নিয়ে প্রকৌশলী ও লেখক ভজন সরকারের এই অসাধারণ লেখাটি সেয়ার করলাম ….
******************************************
অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন, মসজিদ ভাঙে ধার্মিকেরা, মন্দিরও ভাঙে ধার্মিকেরাই। যাঁরা ধর্মের নামে এই ভাঙাভাঙিতে নেই, উপরন্তু মন্দির-মসজিদ দু’টোকেই রক্ষা করে; অথচ নিরপেক্ষ এই মানুষগুলোকে আবার হিন্দু-মুসলিম উভয় ধার্মিকেরাই হত্যা করে।

ভারত উপমহাদেশ জুড়ে শতশত বছরব্যাপি এই যে নারকীয় হিন্দু-মুসলমান দাংগা ঘটছে, এর শেষ কোথায়? এর পেছনে কি আদৌ কোনো ধর্মবিশ্বাস কাজ করেছে? পেছন থেকে কলকাঠি যারা নেড়েছে, তারা কি আদৌ খুব ধর্মবিশ্বাসী?

যুগের পর যুগ ধর্মকে শিখন্ডী বানিয়ে দু’ধর্মের অন্ধ বিশ্বাসী মানুষকে উত্তেজিত করে একে অপরের পেছনে লেলিয়ে দে’য়া হচ্ছে। অথচ কী আশ্চর্য, দু’ধর্মের মানুষেই বোকার মতো অন্যকে তো মারছে, নিজের জীবনও বিপন্ন করেই চলেছে ।

সম্প্রতি ভারতে যা হলো ও হচ্ছে, এটার সাথে ধর্মবিশ্বাসের সম্পর্ক কি খুব নিবিড়? মনে তো হয় না। একটি দেশের নাগরিকপঞ্জী করা হবে। সে তো খুবই স্বাভাবিক। অথচ ক্ষমতাসীন বিজেপি সেটিকে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় মোড়ক দিলো নিজেদের ভোটের স্বার্থে। অপরদিকে, কংগ্রেসসহ বিরোধীদলও কি খুব বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে? বিশেষকরে পশ্চিমবংগ ও দিল্লীসহ কিছু কিছু এলাকায়।

আসলে রাজনীতি নাকি মানুষের জন্য, সত্যি কি তাই? সম্প্রতি দিল্লীর দাংগার বিভিন্ন খবর পড়ে এটাই মনে হয়েছে, এই রাজনীতিবিদরা কেউই সাধারণ মানুষের পাশে তেমন দাঁড়ায়নি। মুসলমানদের রক্ষা করেছে ওই সাধারণ হিন্দুরাই, আবার অনেক জায়গায় হিন্দুদের রক্ষা করেছে কিন্তু ওই সাধারণ মুসলমানেরাই। দাংগার বিরুদ্ধে যাঁরা দাঁড়িয়েছে তাঁরা কিন্তু মানুষ হিসেবেই দাঁড়িয়েছে, হিন্দু বা মুসলমান হিসেবে নয়।‍

ধর্মবিশ্বাস মানুষকে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খৃস্টানসহ বিভিন্ন ভাগে বিভাজন করে। রাজনীতিবিদরা সেই বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে একে অপরের পিছনে হিংসায় লেলিয়ে দেয়।

মানুষ যতো তাড়াতাড়ি এই ধর্মবিশ্বাসের আফিমের নেশা থেকে মুক্তি পাবে, মানুষের তথা মানবতার মুক্তি ততো তাড়াতাড়ি ঘটবে।




Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*