বাঙ্গালী চেতনার নোঙ্গর জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান- জন্ম শত বর্ষে লাল সালাম!!!




বাঙ্গালী চেতনার নোঙ্গর জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান- জন্ম শত বর্ষে লাল সালাম !!!

………………………………………………………. সৌরভ বড়ুয়া, অটোয়া ।
মহাকালের শ্রেষ্ট বাঙালী জাতির জনক বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিয়ে
লিখতে বসা বা কিছু বলার চেষ্টা করা বরাবরই আমার কাছে ধৃষ্টতা মনে
হয়েছে। আমার জন্ম ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী হওয়াতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে
আমার অনুভুতি বা উপলব্ধি ভিন্ন রকম, যেমন আমি “অজন্ম” ভোগ করে
যাচ্ছি – যে মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের তাজা প্রাণ আর ২ লক্ষ মা-
বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ! আর আমার এই স্বাধীনতার
রুপকার বা স্থুপতি “বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান” । অজন্ম কথাটি গর্বের
সাথে বারে বারে উচ্চারন করছি, যেটি আমার জন্মদাতা মা বাবা কিংবা
কাকার ক্ষেত্রে ভিন্ন । তাঁরা জন্ম থেকে স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত বয়ে
বেরিয়েছিলেন পরাধীনতার গ্লানি আর বঞ্চনা । আর এই জন্যই বোধ করি
আমার লেখার শুরুতে বার বার বলেছি, আমি ও আমার মত যাদের জন্ম
স্বাধীনতা পরবর্তী লাল সবুজের পতাকা খচিত জন্ম সুত্রে স্বাধীন দেশের
নাগরিক কিংবা পরাধীনতার গ্লানি বা বঞ্চনা যাদের ছুতে পারেনি, আমাদের
মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতার অনুভুতি বা উপলব্ধি ভিন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক ।
যেটি আমার মা বাবা কিংবা কাকার ক্ষেত্রে নয় ।
জন্মের পর থেকেই শৈশব আর কৈশোরে বাবা কাকার মুখ থেকে শুনে আসা
মুক্তিযুদ্ধকালীন ভয়ংকর স্মৃতিকথা, আমার বাবা চায়না পন্থী কমিনিস্ট
দল ভুক্ত ছিলেন, রাত জেগে মুক্তিযুদ্ধের সমরাস্ত্র প্রশিক্ষণ স্মৃতি
কিংবা দিনের বেলায় পাকিস্তানি মিলিটারি বা ফৌজিদের আক্রমনের ভয়ে
প্রাণ বাচাঁতে ধান ক্ষেতে লুকিয়ে থাকার গল্প। আর আমার কাকা ছিলেন
“কবিয়াল” কবি গান করতেন হয়তো কোনদিন বাড়ীর আঙ্গিনায় হারমোনিয়াম নিয়ে গান শেখাতে বসছেন “দেশাত্ববোধক গান” আমারা কাকাত জেঠাত ভাই
বোনেরা সবাই মিলে স্কুলের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে উদ্ভোধনী সংগীত
আর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটিকা পরিবেশন করবো । কিন্তু আমাদের গলায়
ঠিক সুর আসছিলনা আর ডায়লগে নাকি দরদ আসছে না। এইবার শুরু হয়ে
গেল উনার মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতির গল্প: আমাদের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার
আনোয়ারা থানার অর্ন্তগত, আমাদের পাশে হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম
পড়ইকোড়া, তারাঁ কিভাবে পাকিস্তানি মিলিটারি আর রাজাকার-আলবদরদের
কাছ থেকে প্রাণ বাচাঁতে আমাদের বাড়িতে আর আমাদের গ্রামে আশ্রয়
নিয়েছিল সেই গল্প: গল্প আর শেষ হতে চায় না, আর এদিকে আমার বড়
জেঠাতো বোন ফুলু দিদি ফোঁস ফোঁস করে কাদঁছে আর আমার পাশে বসা
কাকাতো ভাই রিমু ভয়ে আমার গাঁ জড়িয়ে কোল ঘেস্ছে। এ তো গেল শৈশবের
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি। শৈশব পেরিয়ে হাইস্কুলে নাইন বা টেন এ পড়ছি
স্বৈরাচারী এরশাদ এর দীর্ঘ শাসন পরবর্তী বিএনপির শাসন আমল চলছে
মহা সমারোহে বাড়ি থেকে হেটেঁ হেটেঁ স্কুলে আসার পথে কলেজের বড় ভাইরা
মুহর মুহর মিছিল করছে । আর আমার সহপাঠী বন্ধুটি “বাকশাল” সর্ম্পকে
প্রচলিত নেতিবাচক ধারণাটি বুঝানোর প্রাণান্ত চেষ্টা করছে। যেহেতু
আমার নামের শেষে বড়–য়া বিষয়টি আছে অন্য সবার মত সেও ধরেই নিয়েছে
আমি আওয়ামীলীগ পন্থী। ইতোমধ্যে আমি প্রগতিশীল শিশু সংগঠন
“খেলাঘর” “কচি কাচার মেলার” সক্রিয় সদস্য। আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে
অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠচক্রে অংশ্রহণে জানতে ও বুঝতে শুরু
করলাম স্বাধীনতা মুল ৪টি স্তম্ভের যেখানে ধর্ম নিরপেক্ষ আর
বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা স্পষ্ট। তারপর আমার কলেজ জীবন
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ, সেই সময়ে চট্টগ্রামের গুটি কয়েক শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকি সব কটিতে ছাত্রশিবিরের আগ্রাসন। আর আমি সদ্য গ্রাম থেকে উঠে আসা ভিতুর ডিম। সিটি কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় উপস্থিত বক্তৃতা আর আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে নজরে পড়ে গেলাম প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের, সাংস্কৃতিক সংগঠন আর
কর্মকাণ্ডে নিবির ভাবে জড়িয়ে গেলাম, চলতে থাকল অন্যান্য সাংস্কৃতিক
কর্মকান্ডের পাশাপাশি “পাঠচক্র” ।
ফিরে আসি আমি আবারও আমার স্বাধীনতার উপলব্ধিতে এত দান্ধিক
বোঝাপড়ার পরও একটি বড় প্রশ্ন আমাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে সেটি হলো
এই পরাধীন জাতিকে যিনি স্বাধীনতার স্বাদ এনে দেয়ার নেতৃত্ব দিয়েছেন
তার ব্যক্তিত্ব কেমন ছিল ? তার আদর্শ কেমন ছিল ? ৭৫ এ কেন তাকেঁ
স্বপরিবারে মরতে হলো ? আর আমি রেকর্ড বাজিয়ে বার বার শুনি ৭ই
মার্চের কালজয়ী ভাষণ । আর নিজে নিজেকে প্রভোদ দিই উত্তর মেলাই –
এই না হলে মহানায়ক “হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ”
বাঙ্গালী আমরা কি তৈরী ছিলাম/ প্রস্তুত ছিলাম ? এই মহান নেতাকে ধারণ
করবার , নিশ্চই নয়, তাইতো হারাতে হলো এই মহা মানবকে ?
এই বৈষম্য হীন সমাজ ব্যবস্থার বীজমন্ত্র বপন এর প্রথম পাঠ শুরু
হয়েছিল আমার ইতিহাসের মহাননেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
রহমান এর আর্দশ জানতে গিয়ে, শুরু হয়েছিল তাঁরই আর্দশ চেতনা কিংবা
প্রেরণায় আমার কর্ম জীবন সৃজিত হয় সমাজ বদলের প্রতিষ্ঠান গড়ার
পালা দিয়ে, যারই ধারাবাহিকতায় এই দুর পরবাসে থেকেও বাঙ্গালী চেতনার
কান্ডারী /বাতিঘর বা নোঙ্গর যাই বলিনা কেন তিনি যেন আমায় বা আমাদের
রাশ টেনে ধরছেন, যেমনটি আগেও ধরেছিলেন ভবিষ্যতেও ধরে রাখবেন, আর
আমরা হয়ে উঠবো বিশ্ব বাঙ্গালী। পরবর্তী প্রজন্মকে নিয়ে আমরা যত
সংকিত হই না কেন প্রজন্মের চেতনার চির ভাস্বর বা চির জাগরুক হয়ে
থাকবেন মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমান !!! জন্ম শত বর্ষে লাল সালাম !!!




Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*