করোনা নয় ভয়াবহ নিরব দুর্ভিক্ষ ধেয়ে আসছে




করোনা আমাদের কৃষি বিমুখতার কথা ভালভাবে স্মরণ দিবে এবার! ‘করোনা নয় ভয়াবহ নিরব দুর্ভিক্ষ ধেয়ে আসছে, চাল থেকে আটা, ডাল থেকে ডাটা চিনি থেকে গুড় মুড়ি কিংবা চানাচুর আমরা পুরোদমে কৃষি বিমুখ হয়ে গেছি দুই দশক ধরে। সব কিনে খেতে অভ্যস্ত অতচ গত দুই দশক আগেও গ্রাম বাঙলার প্রতি ঘরে ঘরে এসব নিজেদেরটা নিজেরাই সংস্থান করতাম। কর্পোরেট জগতের বাবুরা সুন্দর প্যাকেটে মরিচের গুড়ো, প্যাকেটের চাল, ডাল আমাদের হাতে তুলে দিয়ে আমাদের কৃষিটা আমাদের নাগালের বাইরে নিয়ে গেল। কৃষি কাজে যারা নিয়োজিত তাদের ছোট করে দেখার যে ট্রেন্ড গড়ে উঠল। উচ্চ শিক্ষিতরা তাতে নিজেদের অচ্যুত ভাবা শুরু করল। গোটা বিশ্ব যখন করোনা নিয়ে ভীত সন্ত্রস্ত। মরণ ভয়ে কুকড়ে আছে , কিন্তু আমি ভাবছি তার বিপরীত দিক থেকে। এই জাতির সামনে ধেয়ে আসছে এক বড় দুর্ভিক্ষ, কৃত্রিম সংকট! করোনার চেয়ে বেশি হাজার গুণ বেশি প্রাণ কেড়ে নেয়ার হুমকি হয়ে আসছে খাদ্যাভাব!সমগ্র বিশ্ব কার্যত বিচ্ছিন্ন! খাদ্যে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ এটা মুখরোচক আর মুখরক্ষা করা কথা। বাস্তবতা ভিন্ন সেটা এক পেয়াজই বুঝিয়ে দিয়েছে গত মাস কয়েকে।ইউরোপ সহ বহির্বিশ্বে বিগত অর্থনৈতিক ধাক্কা এদেশে লাগেনি কারন এইদেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা আর পোশাক সৈনিকরা তা বুঝতে দেন নি। তাদের ঘামে ভেজা টাকায় এই দেশের অর্থনীতি হাজারো দূর্নীতি স্বত্তেও দাড়িয়ে ছিল। এখন এই দুই ক্ষেত্রের সৈনিকদের চরম দুর্দিন চলছে। প্রবাসীদের কি এক অবস্থা ভাবা যায়না। বিদেশবিভুঁইয়ে পড়ে আছে খেয়ে না খেয়ে। দেশে আসলে মুখোমুখি হতে হচ্ছে এক চরম বিব্রতকর অবস্থার। যার টাকায় বিদেশী কন্সুলেট এর বেতন ভাতা চলে, দেশ চলে তাকে দেশ গ্রহন করতে চাচ্ছেনা। নিয়তির কি নির্মম পরিহাস। অর্থনীতির চাকা আগামী দুই মাসে কোথায় গিয়ে থামে আল্লাহ মালুম! এখন শুষ্ক মৌসুম অতি অল্প সময়ে কি কি কৃষি ফসল উৎপাদন করা যায় তাই ভাবা শুরু করার সময় এসে গেছেরে ভাই ! কৃষি মানব সন্তানের সভ্যতার সূতিকাগার।কৃষি আমাদের আদি অকৃত্রিম পেশা।কৃষিতেই মুক্তি। যারা কৃষিতে আছে তাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বলা হোক। তাদের জন্য প্রনোদনা, পুরস্কার ও স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষিত প্রজন্মকে বিসিএস এ অনুপ্রাণিত না করে কৃষির আধুনিকায়নের প্রশিক্ষন দেয়া হোক। নিজে নিজে কিছু একটা করতে পারে মতো স্বল্প সুদে, সহজ শর্তে ঋণদান করা হোক এবং ঋণের টাকা যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা যায় কারণ বাঙালির ঋণ করে ঘি খাওয়ার অভ্যাস। পাশাপাশি আরেকটা বিষয়ে নজর দেয়া দরকার তা হল যত্রতত্র আবাসনের নামে ধানি জমি উজাড় করা থেকে নিভৃত রাখা। খাদ্য উৎপাদনে সর্বোচ্চ জোর দেয়া সময়ের দাবী। লেখক: Rahim Saikat শিক্ষক, তথ্যচিত্র নির্মাতা




Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*