নার্স শিলা রানী দাশের আকুতি, “আমি কি না খেয়ে মারা যাবো ???”




“নার্স শিলা রানী দাশের আকুতি, “আমি কি না খেয়ে মারা যাবো ???”
“আমি শিলা রানী দাস, নার্সিং সুপারভাইজার পদে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছি। আমি স্বাধীনতা নার্স পরিষদ এর খুলনার বিভাগীয় প্রেসিডেন্ট। গত ০৪.০৪.২০২০ থেকে করোনা হাসপাতালে কর্তব্যরত ছিলাম। গত ২৮.০৪.২০২০ এ আমার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে।
এখন আমি করোনা হাসপাতালে ভর্তি আছি।


আমার জন্য সকলে একটু আশীর্বাদ করবেন, আমি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আপনাদের সবার মাঝে ফিরে আসতে পারি।


তবে হাসপাতালের বেডে শুয়ে খুব কষ্ট লাগছে আমাদের এলাকার অর্থাৎ খুলনা মহানগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হাফিজুর রহমান সহ কিছু লোকের কর্মকান্ড শুনে। আমি যখন করোনা হাসপাতালে ভর্তি হই তখন তারা আমার বাসার কাজের লোকের বাসা লকডাউন করছে, ঠিক আছে !
কিন্তু আমি একজন নিরামীষভোজী, আমার বাড়ির মানুষজন বলেছে আমার খাবারের ব্যবস্থা করতে, আমি নিজেও বলেছি……….. কিন্তু তারা আমার পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে !
আমার সমাজের কাছে প্রশ্ন আমি রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছি এখানে আমার অপরাধটা কোথায় ? আমি কি কোনো অপরাধী যে আমাকে খাবার টা পর্যন্ত দেয়া যাবেনা! আমি কি না খেয়ে মারা যাবো ? এ কেমন বিচার ?


কারা এদেরকে এলাকার মানুষের দেখা শোনার ভার দিয়েছে ??”
বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম! এ কেমন অবিচার মানুষের প্রতি ??? যারা দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্তদের দিনরাত সেবা করে যাচ্ছেন, তাদের এই পরিনতি কোনভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব না।


করোনা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে নিজে করোনায় আক্রান্ত হওয়া নার্স শিলা রানী দাশের এই আকুতি কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছাবেনা ???


নিলয় চক্রবর্তী
১লা মে ২০২০ ইং।।




Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*