“বিদ্যানন্দ একদিন দুনিয়ানন্দ হয়ে উঠবে” -একটি স্বপ্নের অপমৃত্যু বনাম একজন কিশোর কুমার দাশ




বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের এবারের স্লোগান ছিলো ” আপনার যাকাতের টাকায় হবে কৃষকের সার ও বীজ”।
তাতে কি আর সবার মন গলে?

দাঁড়ান, একটু সূত্র ধরিয়ে দেই। এই বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন মূলত ” এক টাকার আহার” প্রকল্পের জন্য দেশ বিদেশে সুপরিচিত। তাদের এই কাজ গরীব ও নিম্নবিত্তদের মুখে তুলে দেয় ডাল ভাত ডিম তরকারী। নাম শুনে ভাবছেন, বিদ্যানন্দ শুধু অমুসলিমদের খেতে দেয়? জ্বী না।

তাদের ভোক্তা ডোনার সুবিধাভোগী ভলন্টিয়ার সবাই মূলত মুসলিম। তারা মাদ্রাসায় খাওয়ায়। একটা ছবিতে দেখলাম হাফেজ হুজুর এসে মনের আনন্দে রান্না করে দিয়েছেন। তারা বস্তা বস্তা খাবার চাল ডাল পাঠিয়ে চলেছে করোনা কালে। যার ভাগ পায় দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষ।

এ সব কোন ঝামেলা র বিষয় না। গোল বেঁধেছে দুই কারণে। একে এর নাম বিদ্যানন্দ। তায় আবার প্রধানের নাম কিশোর। যেন তেন কিশোর না, কিশোর দাশ।ব্যাস এ দুই’ই কাল।

এটা যে কারণ তা বিদ্যানন্দের ফেইসবুক পেইজ দেখলেই বুঝবেন। ইনিয়ে বিনিয়ে তারা বারবার বলার চেষ্টা করেছে খামোখা গুজবে কান দেবেন না। আমাদের প্রেসিডেন্ট কিশোর দাশ মহানন্দে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি চান এই সংস্থা আরো আগে বাড়ুক। চান বলেই সরে দাঁড়ানো? কি নির্মম রসিকতা। জীবনের সব কষ্ট দুঃখ গ্লানি সয়ে কিশোর দাশ এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন সরে দাঁড়ানোর জন্য? অবশ্য তারা নিজেরাই লিখিত ভাবে স্বীকার করেছেন, নামের জন্য ভুল বোঝাবুঝি ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক প্রচারণায় তাদের দান অনুদান কমে যাচ্ছে হু হু করে।

মন খুলে বলতে না পারলেও আমরা বুঝি। যে দেশে নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গোপালগঞ্জ, চট্টেশ্বরী রোড তোপের মুখে থাকে সে সমাজে কিশোর দাশ কি ভাবে গ্রাহ্য হবেন?

কিশোর দাশ মনে রাখবেন আপনার চাইতে অনেক বড় অনেক নামী অনেক পাওয়ারফুল ছিলেন যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল। এম পি ছিলেন। ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের কথা মনে আছে? শরণার্থী হয়ে সীমান্ত পার হন নি। পাকিদের চোখ রাঙানো উপেক্ষা করে দেশকে ভালোবাসার প্রতিদানে তাঁর আশি বছরের শরীরটাকে রক্তাক্ত ক্ষত বিক্ষত করে ফেলে দিয়েছিল তারা। বলধা গার্ডেনের রণদা প্রসাদ সাহা। দানবীর মানুষ। ভারতেশ্বরী হোমসের রণদা বাবু বাঁচতে পারেন নি। নতুন চন্দ্র সিংহ ছিলেন চট্টগ্রামের সিংহ হৃদয় মানুষ।স্কুল কলেজ করেছিলেন বাঙালি মানুষ হবে বলে। এক গুলিতে উড়ে গিয়েছিল তাঁর প্রাণ পাখি। এ দেশে শুধু এঁরা না, হুমায়ূন আজাদের মতো মানুষরাও অনিরাপদ।

বিদ্যানন্দ যতোই বলুক তাদের এই নামটি মুসলিম কোন ভদ্রলোকের দেয়া কাজ হবে না। পচে গলে একাকার হওয়া এই সমাজে বাঁচতে হলে গুটিয়ে লুকিয়ে সরে পড়ুন। নতুন করে শহীদ হবার হাত থেকে তো বাঁচুন।

বিদ্যানন্দের মতো দাতব্য কল্যাণমূলক সংস্থা বাঁচানোরও কি কেউ নাই? কি হবে আমাদের??……………….Ajoy Dasgupta.

“বিদ্যানন্দ” ফেইচবুক পেইজ স্ট্যাটাস

“বিদ্যানন্দ” নামটি দিয়েছেন এক মুসলমান ব্র্যান্ড এক্সপার্ট। “আনন্দের মাধ্যমে বিদ্যা অর্জন” স্লোগানের সাথে মিল রেখে তিনি নামটি দিয়েছিলেন। অনেকেই এটাকে ব্যক্তির নাম থেকে ভেবে ভুল করেন। এজন্য আমরা দুই বছর আগে নাম পরিবর্তনের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটে করি এবং স্বেচ্ছাসেবকরা নাম পরিবর্তনের বিপক্ষে ভোট দেয়।

বিদ্যানন্দের প্রবাসী উদ্যোক্তা সশরীরে খুব অল্পই সময় দিতে পারেন। ৯০% মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকরাই চালিয়ে যান প্রতিষ্ঠানটির বিশাল কর্মযজ্ঞ। তবুও উদ্যোক্তার ধর্ম পরিচয়ে অনেকেই অপপ্রচার চালায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে। যাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় কার্যক্রম, অনুদানের গতি।

গত মাসেই বিদ্যানন্দের প্রধান পদত্যাগের কথা জানিয়ে দেন স্বেচ্ছাসেবকদের। সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারে নয়, বরঞ্চ ব্যক্তিগত ত্যাগে স্বেচ্ছাসেবকদের অনুপ্রাণিত করার এবং নতুন মেধায় প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করার স্বপ্নে এমন সিদ্ধান্ত। আর তিনি প্রধানের পদ ছাড়লেও বিদ্যানন্দ ছাড়ছেন না, বরঞ্চ সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন।

আমরা বিষয়টি প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম চলমান ক্যাম্পেইনের পরে। কিন্তু কিছুদিন ধরে চলা মাত্রাতিরিক্ত সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারে জল ঢালতে খবরটি আজকে শেয়ার করলাম।

আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য বিষয়টি হতাশার নয়। বরঞ্চ পদ আঁকড়ে থাকার মানসিকতার এই সমাজে উল্টা পথে হাঁটতে পারার জন্য গর্ব হচ্ছে। আর বিদ্যানন্দে পদে কি যায় আসে? এখানে তো কাজটাই আসল, আর সেটাই আমরা করে ছাড়বো।

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2887777514590720&id=642444282457399

এক টাকায় আহার !!! বিদ্যানন্দ ও একজন কিশোর কুমার দাশ

এক টাকায় আহার !!! বিদ্যানন্দ ও একজন কিশোর কুমার দাশ

#স্বপ্নের_অপমৃত্যু

বিদ্যানন্দ একদিন দুনিয়ানন্দ হয়ে উঠবে!

ক্ষুৎপিপাসায় কাতর মানুষের জীবনপ্রদীপ হয়ে জ্বলুক বাংলার বিদ্যানন্দ!

বিদ্যানন্দের কাজ জাত-পাত-ধর্মের উর্ধ্বে!

যার হাতে ধরে!যার স্বপ্নালু চোখে আনন্দের সাথে বিদ্যাঅর্জনের এই বিদ্যানন্দের হাতেখড়ি তার সরে যাওয়া কোনভাবে কাম্য নয়!




Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*