সুশান্ত সিং রাজপুত আত্মহত্যা করেছেন? সাস্পিসিয়াসনেস বলে হত্যাওতো হতে পারে! বলিউড সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি?




‘দ্য গ্লোরিয়াস আনসার্টেনিটি’ কথাটা উঠলেই ধরে নিতে হয় ক্রিকেট। বাংলা ধারাভাষ্যকাররা ভুল মানে করে বলে- ‘গৌরবময় অনিশ্চয়তা’। ইন্ট্রোতে এটা বলে নিচ্ছি; কারণ দৃশ্যত ক্রিকেটের চেয়েও ‘গ্লোরিয়াস আনসার্টেনির্টি’ মানে হওয়া উচিৎ- বলিউড। ‘আমচি মুম্বাই’! বহুল প্রচলিত- ‘মায়া নাগরী’। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বস্তি। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।
সেখানকার তরুণ নায়ক সুশান্ত সিং রাজপুত আত্মহত্যা করেছেন। বিশ্বজুড়ে খবর- ‘তিনি আত্মহত্যা করেছেন’। সাস্পিসিয়াসনেস বলে হত্যাও তো হতে পারে! বলিউড সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি? বলতে গেলে কিসসু না। বড় জোর ২০-২৫ ভাগ খবর জানতে পারি।
কেউ কি জানতেন, কিশোর কুমার মধুবালাকে বিয়ে করে মুসলমান হয়েছিলেন? না। জানতেন না। লীনা চন্দ্রভাকর ছিলেন তার ৪ নম্বর স্ত্রী এবং ফের হিন্দু হয়ে তাকে বিয়ে করেছিলেন!
যাকগে। সুশান্ত সিং প্রসঙ্গে থাকি। একবাক্যে সবাই বলছেন- এমন ব্রাইট ক্যারিয়ার, এমন প্রিভিলেজড ফ্যামিলির ছেলে, এমন সোসাল স্টাবিলিটি নিয়ে মাত্র ৩৪ বছরে কেন একটা ছেলে স্যুইসাইড করবে?
যদি ধরেও নিই তিনি স্যুইসাইড করেছেন, তাহলে তার আগে বলা বিশেষণগুলোর দরকার করে না। রাগে-ঘেন্নায়-কষ্টে বাঁচতে ভালো লাগেনি, মারা গেছেন। ব্যাস। আর যদি হত্যা করে ঝুলিয়ে স্যুইসাইড বলে চালিয়ে দেয়া হয় সেটা ভিন্ন কথা। অমন ঘটনাও দশ-এগারটা আছে! তাদের কারও কারও বয়স ৩০এরও কম!
তার আগে সুশান্তর চেয়ে বিখ্যাত কিছু মানুষের আত্মহত্যার খবর দিই-
১। বিবেক বাবাজী। মডেল। অরিজিন মরিশাস-এর। কামসূত্র কনডমের এড করে বিখ্যাত। ১৯৯৩ সালে মিস মরিশাস ওয়ার্ল্ড।
২। প্রত্যুশা ব্যানার্জী। টিভি আর্টিস্ট। মাত্র ৩২ বছরে মারা যান।
৩। ফাতাফাত জয়লক্ষ্ণী। মালায়ালম এই নায়িকা মাত্র ২২ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন।
৪। নাফিসা জোসেফ। একে অনেকেরই মনে থাকার কথা। MTV র জকি ছিলেন। ১৯৯৭ মিস ইন্ডিয়া ফেমিনিস্ট, এবং মিস ইউনিভার্স ফাইনালিস্ট ১৯৯৭।
৫। শিখা জোশী। মডেল। টিভি আর্টিস্ট। ৩০ পার হওয়ার আগেই।
৬। কন্নড় নায়িকা কল্পনা। খ্যাতির শিখরে থাকা অবস্থায় মারা যান।
৭। জিয়াহ খান। ব্রিটিশ-আমেরিকান-ইন্ডিয়ান গায়িকা-নায়িকা, এর কথা সবারই মনে থাকার কথা। ‘নিঃশব্দ’ ছবিতে অমিতাভের বিপরীতে দুর্দান্ত অভিনয়। এরও ৩০ পার হলো না।
৮। মঞ্জুলা দেবী।
৯। ময়ূরী বালা।
১০। মোনাল নাভাল।
১১। প্রত্যাশা। তেলেগু আর্টিস্ট।
১২। প্রেমা। মালায়ালম।
১৩। কুলজিৎ রান্ধোয়া। অনিন্দ সুন্দরী সুপার মডেল। কোনো কিছুরই অভাব ছিল না।
১৪। সোভা বা মহালক্ষ্ণী মেমন। মালায়ালম নায়িকা।
১৫। সিল্ক স্মিতা। ‘সাদমা’ ছবিতে কমল হাসান-শ্রীদেবীর সঙ্গে ছিলেন। সে সময় তামিল ছবিতে তাকে ‘বম্বশেল’ বলা হতো।
১৬। বিশ্বনাভী। তামিল নায়িকা।
১৭। বিজয়াশ্রী। তামিল, কন্নড়, মালায়ালম অভিনেত্রী।
১৮। নিতিন কাপুর। ২৫ এর নিচে।
১৯। উদয় সিং। ৩০ পুরো হওয়ার আগেই।
২০। কুনাল সিং। ৩৫ বছরে।
এই তালিকায় আরও ডজনখানেক নাম আছে। থাক সেসব। এর মধ্যে সবচেয়ে শকিং স্যুইসাইড ছিল গুরু দত্তের। মূল নাম বসন্ত কুমার শিবশংকর পাড়ুকোনে, ওরফে গুরু দত্ত। আরও একটি বিখ্যাত পরিচয়-তিনি মহান সংগীত শিল্পী গীতা দত্তের স্বামী। কী পরিচালনা, কী অভিনয়, কোথাও কোনোদিন পরাজিত হননি। শেষে এসে হেরে গেলেন জীবনের কাছে! তাদের দাম্পত্য জীবন এতটাই অসুখী ছিল যে তিনি বা গীতা দত্ত কেউ তাদের যাপিত জীবনকে ‘যাপন’ বলতে পারতেন না। বলতেন- ‘জিন্দা হু’!
এদেরই সর্বশেষ বলি হলেন সুশান্ত সিং রাজপুত? না। পারভীন ববি খুন হয়েছেন।
পরিচালক-প্রযোজক মনমোহন দেশাই খুন হয়েছিলেন।
ভীষণ জনপ্রিয় ‘ললিপপ গার্ল’ দিব্যা ভারতী খুন হয়েছিলেন। মাত্র ১৯৯৩ সালে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন।
এই ‘মায়া নাগরী’র অনেক ট্রাজিডি। আমাদের চোখের সামনে যে সব ‘স্বপ্নদেবী’ আর ‘স্বপ্নপুরুষ’ গেঁথে রয়েছেন তাদের কারও কারও জীবন এতটাই দুঃখ-কষ্টের যা আমরা কল্পনাতেও হয়ত আনতে পারব না। মমতাজ জাহান দাহলভী ওরফে মধুবালার মত সর্বগুনে গুনান্বিত নায়িকা বলিউডের ইতিহাসে আগেও ছিল না, এখনও নেই, হয়ত ভবিষ্যতেও আর আসবে না। এক ‘প্যায়ার কিয়া তো ডারনা ক্যায়া হ্যায়’ গানে ১৮ কলা আর মুদ্রা দিয়ে দিয়ে সাড়ে সাত মিনিটের গানেই একটা উপন্যাস বলে দিয়েছিলেন! (আমি তাই মনে করি)। এই মানুষটিও মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা গেলেন! অসুখে মরে গেলেন। ভেতরে যদিও অনেক না-বলা কথা রয়েছে। সে সব আর এক দিন।
সুশান্ত সিং রাজপুত; জিনা ইসিকা নাম হ্যায় ইয়ারো। জিনা হ্যায় তো শের কি তারাহ জিও, আউর নেহি তো জিনাকি পিছে ফুলস্টপ লাগা দো। আলবিদা। …………………………………………………………………………..Collected from Monjurul Haque timeline. 

| প্লিস দরকারে কথা বলুন, পাশে থাকি আসুন একে অপরের,প্লিস |

—- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ

হ্যাঁ সুশান্ত সিং রাজপুত আত্মহত্যা করেছেন। বিগত ছয়মাস ধরে ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন চলছিল, তিনমাস গৃহবন্দী। মাত্র ৩৪ বছর বয়স ছিল। সাফল্য, অর্থ, শিক্ষা সব ছিল৷ ফিটনেস ফ্রিক, আড্ডাবাজ, পজিটিভ, দিল্লির ইঞ্জিনিয়ার থেকে মুম্বাইয়ের তারকা। লাখ লাখ মেয়ের নয়নের মনি। পারে এভাবে জীবন শেষ করে দিতে?
এই হাসিখুশি ছেলেটার কোন ডিপ্রেশন থাকতে পারে? সিরিয়ালের এতো জনপ্রিয়তা, ‘কাই পো চে’র মতো ছবি, ব্যোমকেশ বক্সী, মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো চরিত্র, শেষ ছবি ব্লকব্লাস্টার ‘ছিছোড়ে’। গোটা ছবিটা আত্মহত্যার বিরুদ্ধে, জীবনকে উদযাপন করা নিয়ে। এই ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে?
পারে। আর তাই কথা বলুন। কথা বলুন একে অপরের সাথে। কারোর মনখারাপ শুনে ওকে একা ছেড়ে দেবেন না। ওকে মেসেজ করুন, খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরুন। মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রয়োজনীয়। কার মনে কী চলছে কেউ বলতে পারেনা। কিন্তু আমরা চেষ্টা করতে পারি৷
২০২০ নৃশংস একটা বছর। খারাপ খবর, মর্মান্তিক খবর সাধারণ, নিয়মিত জিনিস হয়ে গেছে। অন্ধকার সময়। আরো অন্ধকার হয়ে পরছে চারপাশ। ডিপ্রেশন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে রোম্যান্টিকতা না, লড়াই করে বের করে আনতে হবে।
এই সোশ্যাল মিডিয়াতে যারা যারা আছেন, আমার লেখা পড়েন, প্লিজ মনখারাপে, হতাশায়,একা লাগলে মেসেজ করুন। আমি, আমরা কেউ খারাপ ভাববো না। ডিপ্রেশন হলে হাত বাড়িয়ে দিন। ডিপ্রেশন খুব সাধারণ এক বিষয়, লুকোবেন না।
আপনার গলা ছেড়ে গান গাইতে ইচ্ছে করলে গান, টিকটকে ভিডিও বানাতে ইচ্ছে করলে বানান, যা ভালো লাগছে করুন। কোরোনার সাথে সাথে ডিপ্রেশনের বিরুদ্ধে ও আমাদের লড়তে হবে।
চলুন আমরা সবাই মিলে ঝলমলে রোদ আষ্টেপৃষ্টে রেখে দেবোই। অন্ধকারকে গ্রাস করতে দেবো না, দেবো না, দেবো না। প্লিজ আরো বেঁধে বেঁধে থাকি। প্লিজ একে অপরের সাথে মাঝরাতে কথা বলি খুব অসহায় লাগলে।
—- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ




Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*