পৃথিবীর শেষ কমিউনিস্টের গল্প বলা মানুষটির(কবি নবারুণ ভট্টাচার্য) থেমে যাওয়ার ৬ বছর পার হলো!




পৃথিবীর শেষ কমিউনিস্টের গল্প বলা মানুষটির(কবি নবারুণ ভট্টাচার্য) থেমে যাওয়ার ৬ বছর পার হলো!
পৃথিবীর শেষ কমিউনিস্টের গল্প বলা মানুষটির(কবি নবারুণ ভট্টাচার্য) থেমে যাওয়ার ৬ বছর পার হলো!

পৃথিবীর শেষ কমিউনিস্টের গল্প বলা মানুষটির (কবি নবারুণ ভট্টাচার্য) থেমে যাওয়ার ৬ বছর পার হলো!

“““““““““““““““““““““““““““““মনজুরুল হক, ঢাকা, ৩১ জুলাই, ২০২০।
পেট্রল দিয়ে আগুন নেভানোর গল্প করেছিলেন নবারুণ। কেউ না জানলেও ঠিক জানতেন পেট্রলে আগুন নেভে! এই স্বপ্নটাকে সঞ্চারিত করেছিলেন সত্তরের দশকে চোট খাওয়া নক্সালিদের। নব নব স্বপ্ন ফেরি করেছিলেন এই স্থীর কিংকর্তবিমূঢ় প্রজন্মের কাছে। অন্ধের দেশেও চশমা বিক্রি করার আপাত ফ্যান্টাসি কিন্তু ভয়ঙ্কর জরুরি কাজটাতেও হাত দিয়েছিলেন। পারেননি সবটা। দুম করে শেষ হয়ে যেতে হয়েছে অযত্নে লালিত শরীরটাকে। আজকের এই দিনেই। যেন পণই করেছিলেন- কমরেড চারু মজুমদাদের শহীদ হওয়া মাসেই তাকে চলে যেতে হবে! কী জানি, হয়ত কোনো রাগও থাকতে পারে।
আমরা তোমাকে স্মরণ করার সময় তোমার কালে ফিরব… ক্যাট, ব্যাট, ওয়াটার, ডগ, ক্যাট, ব্যাট….
*
এবার নিয়ে ছয় হলো। দেখতে দেখতে ছয়টি বছর কেটে গেল ‘মৃত্যু উপত্যকার’ কারিগরের। ৩১ জুলাই আজকের এই দিনে তিনি স্তিমিত হয়েছিলেন।
https://www.youtube.com/watch?v=L8JYZkQW39E
*
ফ্যাতাড়ুরা উড়ে যায়, পুড়ে যায় না। পেট্রলে ঠিকঠাক আগুন জ্বলে।
যে মানুষরা গেরিলা যুদ্ধেই নিজেদেরকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন নবারুণের শ্রদ্ধা ছিল তাদের প্রতি। সেখানেই নবারুণ সত্তর আশি এমনকি নব্বইয়ের তাবড় তাবড় মার্ক্সবাদী লেখক-কবিদের থেকে পুরোটাই আলাদা। তিনি বরারবরই পাঠককে একের পর এক বানী দিয়ে গেছেন- আমরা এক অদ্ভুত অন্তহীন জড়তা এবং অনতিক্রান্ত বৃত্তের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছি। তিনি সেখান থেকেই আমাদের ওই স্থানুদশা থেকে টেনে বার করতে চেয়েছেন। .. বলে চলেছেন…… কখন কী ঘটে বলা যায় না।
*
থানা আক্রমণ হতে পারে, পাতালে বোম ফাটতে পারে, ভদির বমি হতে পারে শ্মশাণে অকস্মাৎ তোষকের ভেতর শুয়ে থাকা বোমা ফাটতে পারে। তিনি অদ্ভুত নৈব্যক্তিকতায় বলে চলেছেন-শাসকরা জানতেও পারবে না কখন কোথায় কোন বোমাটা ফেটে যাবে।
তিনি প্রবলভাবে কমিউনিস্ট হতে চাইতেন। নিজে যুদ্ধক্ষেত্রে লড়তে পারবেন না বলে যারা লড়তেন তাদেরকে বিনা বাক্য ব্যয়ে হিরো ভেবে মাথায় তুলতেন….। আমরা আসলে তাঁর সময়টাকেইই ধরতে পারিনি।
*
গঙ্গায় ফ্লোটেলের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় ডিএস আর ডান দিকে মদনকে দেখে না। ভদি মাল খেয়ে নর্দমার পাশে ঠ্যাং ঝুলিয়ে বসে থাকে না…….আমরাও নবারুণকে কেবল ২৩ জুন, ৩১ জুলাইতে ফ্যাৎ ফ্যাৎ সাঁই সাঁই করে স্মরণের ব্যর্থ চেষ্টা করি।
*
এবার নিজের দমবন্ধ দশায় তাকে নিয়ে বিশেষ কিছু বলা হলো না। তার জন্য বিশেষ কোনো শোকগাঁথা হলো না। না হোক। তিনি কী এসবের তোয়াক্কা করতেন জীবনে? কখখনও না। তাই মরণেও করবেন না।
……………….
মনজুরুল হক
ঢাকা
৩১ জুলাই, ২০২০




Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*