আপনি কি জানেন ভাই যে উনি মুক্তিযোদ্ধা কোটাতে আর্মিতে তে চান্স নেয়নি, পরিক্ষা দিয়েই চান্স পেয়েছে।




আপনি কি জানেন ভাই যে উনি মুক্তিযোদ্ধা কোটাতে আর্মিতে তে চান্স নেয়নি, পরিক্ষা দিয়েই চান্স পেয়েছে।

আপনি কি জানেন ভাই যে উনি মুক্তিযোদ্ধা কোটাতে আর্মিতে তে চান্স নেয়নি, পরিক্ষা দিয়েই চান্স পেয়েছে। প্রথমবার যখন পায়ের লিগামেন্টের জন্য ফেল হয়ে যায়, তখন তার বাবা কে বলা হয়েছিল সুপারিশ করার জন্য, তার বাবা বলেছিল মুক্তিযুদ্ধ আমি আমার ছেলের চাকরির জন্য করিনি, পরেরবার আবার পরিক্ষা দিক।
১৯৭৬ সালে বিসিএস দিয়ে চাকরিতে জয়েন করার পরেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব হিসাবে রিটায়ার্ড করার সময় তার বাবার উত্তরা তে সরকার থেকে লটারিতে পাওয়া একটা ৩ কাঠার প্লট ছাড়া আর কিছুই নেই। সেখানে বাড়ি ৩ তালা করেছিলেন লোন নিয়ে, যেই লোন তিনি শেষ করে যেতে পারেননি, সিনহা দিয়েছে। একটা ব্যাক্তিগত গাড়ি ছিল টয়োটা করল্লা ১৯৮০ মডেলের, ছিলনা কোন ড্রাইভার। খোজ নিয়ে দেখবেন ভাই….
ভাইয়া আপনি যা জানতে চান আমাকে জিগ্যেস করতে পারেন। আমার সবচেয়ে কাছের খালাতো ভাই এবং বন্ধু ছিল সে। পাওয়ার তার আজকে থেকে নয়, অনেক আগে থেকেই ছিল, মানে চাকরিতে থাকা কালিন আরও বেশি ছিল। এবিউস করতে দেখিনি কখনোই। আমার লাইসেন্স ছিল না গাড়ির, তার গাড়ি চালাচ্ছিলাম, সে ছিল পাশে বসা। সার্জেন্ট ধরার পর আর্মি পরিচয় না দিয়ে নিজে সার্জেন্ট এর হাতে ধরে সরি বলেছে। তারা তিন ভাই বোন, বড় বোন ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে পলিটিকাল সাইন্সে এম.ফিল করেছেন, ছোট বোন আইবিএ থেকে বিবিএ করে ইউএসএ তে স্কলারশিপে এম.বি.এ করে এখন সেখানেই আছে। বাবা ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব। এমন পরিবারের ছেলে ইয়াবা মদ গাজা খায়না। সকাল সন্ধা দুবার করে জিম করতো প্রতিদিন।
এস এস এফ তে নেওয়ার আগে অন্তত কয়েকবার তার প্রিভিয়াস ক্রিমিনাল রেকর্ড চেক করা হয়েছে।
তথ্যগুলো ও ছবির সূত্র: #মুহাম্মদ_রাশেদ_খাঁন, মেজর রাশেদের বন্ধু ও আপন খালাতো ভাই।
কালেক্ট ফ্রমঃ

Jibon Ahmed

মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ড: ডিজিএফআইর গোপন প্রতিবেদন -নেত্র নিউজ August 2, 2020

মাদক নির্মূলের নামে হত্যার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত টেকনাফের পুলিশ, বলছে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা।

কক্সবাজারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) একটি গোপন তদন্ত প্রতিবেদনে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে সন্দেহভাজন অপরাধীদের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, “হত্যার প্রতিযোগিতা[য়]” লিপ্ত থাকা পুলিশ একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যায়ও দ্বিধা করেনি।

ওই গোপনীয় প্রতিবেদনটির একটি কপি ও প্রতিবেদনের সাথে সংযুক্ত ছবি ও ভিডিও ক্লিপ নেত্র নিউজের হাতে এসেছে। জনগুরুত্ব বিবেচনায় আমরা প্রতিবেদনটি রিডাক্টেড আকারে (কিছু অংশ ঢেকে দেওয়া হয়েছে এমন) প্রকাশ করছি।

মেজর (অবঃ) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খাঁন নামক ওই কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় কক্সবাজার পুলিশ যেই বিবৃতি দিয়েছে, সেটির সঙ্গে ডিজিএফআইর করা মাঠ প্রতিবেদনটি সাংঘর্ষিক। পুলিশ দাবি করেছে, পুলিশের একটি বহর মেজর (অবঃ) সিনহার গাড়ি তল্লাশি করতে চাইলে তিনি নিজের ব্যক্তিগত অস্ত্র বের করেন। এ সময় আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ গুলি করে।

তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজের বরাত দিয়ে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, মেজর (অবঃ) সিনহা তার অস্ত্র বের করেননি। যখন তাকে গাড়ি থেকে বের হতে বলা হয়, তখন তিনি হাত উঁচু করে বের হন। এরপর কোনো বাতচিত ব্যতিরেকেই তাকে গুলি করে হত্যা করেন পুলিশবহর প্রধান এসআই লিয়াকত। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও ৪৫ মিনিট ধরে মেজর (অবঃ) সিনহাকে হাসপাতালে না নিয়ে ঘটনাস্থলেই ফেলে রাখে পুলিশ, “পুলিশ কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করে মৃত্যু নিশ্চিত করে মৃতদেহ হাসপাতালে আনা একটি পৈশাচিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ।”

প্রতিবেদনের “মন্তব্য” বিভাগে বলা হয় যে, টেকনাফ পুলিশের মধ্যে মাদক নির্মূলের নামে এক ধরণের “হত্যার প্রতিযোগিতা” বিদ্যমান। এতে বলা হয়, “[এই প্রতিযোগিতা] অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্ম দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও আরও দিবে বলে ধারণা করা যায়।”

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের উপজেলা হিসেবে পরিচিত টেকনাফকে দেশে মাদক প্রবেশের সবচেয়ে বড় রুট বলেও বিবেচনা করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাদক নির্মূল অভিযানে সন্দেহভাজন অপরাধীদের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে।

গোপন প্রতিবেদনে পুলিশের এমন প্রবণতার বিষয়ে ডিজিএফআই সমালোচনা করলেও, এই গোয়েন্দা সংস্থাটির বিরুদ্ধেও এই ধরণের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে টেকনাফ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর একরামুল হকের বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডে ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা আলোচিত হয়েছে।

২০১৮ সালের মাঝামাঝি, অর্থাৎ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এরপর দুই-তিন মাসের মধ্যেই দেশজুড়ে ব্যাপক মাদক-বিরোধী অভিযানে দুই শতাধিক সন্দেহভাজন নিহত হন, আটক হন হাজার হাজার মানুষ। তখন অভিযোগ উঠেছিল, কেবল সাধারণ মাদক সন্দেহভাজনই নয়, সাধারণ নিরীহ মানুষ ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীরাও এসব হত্যাকাণ্ড ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বাংলাদেশ সরকারকে এ ধরণের হত্যাকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানালেও, সরকারের পক্ষ থেকে সবসময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। সরকার দাবি করেছে, কথিত “বন্দুকযুদ্ধে” আটককৃত সন্দেহভাজনের সঙ্গীরা অতর্কিতে হামলা করার পর, ওই হামলার জবাবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাল্টা আক্রমণ করলে আটককৃত সন্দেহভাজন ক্রসফায়ারে মারা যান।

কিন্তু মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদ মাধ্যমগুলো যা এতদিন ধরে বলে এসেছে, তাই দৃশ্যত নিশ্চিত করলো সরকারের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই।

একজন কর্নেল পদমর্যাদার সেনা কর্মকর্তার লেখা ওই প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, “প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী নির্মূল করার প্রয়াসে” গাড়িতে মেজর (অবঃ) সিনহার একমাত্র সঙ্গী সিফাত, যাকে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের পর আটক করে নিয়ে যায়, তাকে “যে কোন সময়… অস্ত্র/মাদক উদ্ধার অভিযানের নামে হত্যা করার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।”

মেজর (অবঃ) সিনহার সঙ্গী সিফাতকে জেরা করছেন ডিজিএফআইর কর্মকর্তারা।

“মাদক নির্মূল অভিযানের নাম করে [সচরাচর] হত্যা বন্ধ করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা[রও]” সুপারিশ করেছে ডিজিএফআই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরির দেওয়া উপাত্ত অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে এই পর্যন্ত কক্সবাজার উপজেলায় ২১৮টি বন্দুকযুদ্ধ ও ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে টেকনাফ উপজেলায় ঘটেছে ১৪৪টি “ক্রসফায়ার” ও “বন্দুকযুদ্ধে”র ঘটনা, যেখানে মারা গেছেন ২০৪ জন মানুষ।

মেজর (অব) সিনহাকে গুলি করেন এসআই লিয়াকত!

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান গাড়ি থেকে হাত উঁচু করে নামার পরপরই বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বরত পরিদর্শক লিয়াকত আলী তাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি করেন। একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায়, এসআই লিয়াকত কোনো প্রকার কথাবার্তা না বলেই মেজর (অব.) রাশেদকে লক্ষ্য করে গুলি করেন।
গত ৩১ জুলাই রাত ৯টার দিকে মেজর (অব.) রাশেদ খান টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ এলাকায় শামলাপুর অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ডকুমেন্টারি ফিল্মের শুটিং শেষে পুলিশ চেকপোস্ট অতিক্রম করার সময় এ ঘটনা ঘটে।
মেজর সিনহা রাশেদ খান ২০১৮ সালে সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন উপসচিব মো. এরশাদ খানের ছেলে। তিনি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে ২০০২ সালে এইচএসসি পাস করেন।
জানা যায়, মেজর (অব.) রাশেদ গত ৩ জুলাই ঢাকা হতে ‘জাস্ট গো’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলের জন্য একটি ট্রাভেল ভিডিও তৈরির জন্য কক্সবাজারে যান। তার সঙ্গে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম এন্ড মিডিয়া বিভাগের তিনজন শিক্ষার্থীও যান। তারা প্রায় এক মাস যাবত কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে শুটিং সম্পন্ন করেন। গত ৩১ জুলাই সঙ্গীয় সিফাতকে নিয়ে তিনি শামলাপুর অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় যান। এই সময় মেজর (অব.) রাশেদ ফুল হাতা কম্ব্যাট গেঞ্জি, কম্ব্যাট ট্রাউজার এবং ডেজার্ট বুট পরিহিত ছিলেন। রাতের শুটিং শেষে রাত সাড়ে আটটার দিকে তারা দুইজন পাহাড় থেকে নামার সময় দুইতিনজন স্থানীয় ব্যক্তি তাদের দেখে ডাকাত সন্দেহে পুলিশকে অবহিত করে।
জানা যায়, মেজর (অব.) রাশেদ সিফাতকে নিয়ে পাহাড় থেকে নেমে নিজস্ব প্রাইভেট কারযোগে মেরিন ড্রাইভ হয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওয়ানা করেন। শামলাপুরের পূর্বে বিজিবি চেকপোস্টে তাদেরকে তল্লাশি করার জন্য থামানো হয় এবং পরিচয় প্রাপ্তির পর ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে ডাকাত আসছে খবর পেয়ে এসআই লিয়াকত ফোর্স নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন। রাত ৯টার দিকে শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে আসার পর তিনি রাশেদের গাড়ি থামান। মেজর (অব.) রাশেদ গাড়ি থামিয়ে তাদেরকে পরিচয় প্রদান করলে প্রথমে তাদেরকে গাড়ি থেকে নামতে বলা হয়। সিফাত হাত উচু করে গাড়ি থেকে নেমে পেছনের দিকে যান। মেজর (অব.) রাশেদ গাড়ি থেকে হাত উচু করে নামার পরপরই এসআই লিয়াকত তাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি করেন।
বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায়, এসআই লিয়াকত কোন কথাবার্তা না বলেই গাড়ি থেকে নামার পরপরই মেজর (অব.) সিনহাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন এবং সিফাতকে আটক করে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যান।
সূত্র আরো জানায়, স্থানীয় জনগণ এবং সার্জেন্ট আইয়ুব আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেজর (অব.) রাশেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। সার্জেন্ট আইয়ুব আলী ঘটনার ভিডিও করতে চাইলে পুলিশ তার পরিচয় জানতে চায়। তিনি পরিচয় দেয়ার পরও পুলিশ তার নিকট থেকে মোবাইল ফোন এবং পরিচয়পত্র কেড়ে নেয়। রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে পুলিশের মাধ্যমে একটি মিনি ট্রাক ঘটনাস্থলে আনা হয় এবং রাত ১০টার দিকে মিনি ট্রাকটি মেজর (অব.) রাশেদকে নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের উদ্দেশে রওয়ানা করে। প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর ট্রাকটি সদর হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালের কন্ঠ।

 




Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*