সুশান্ত সিং রাজপুতকে গলায় বেল্টের ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে তার বন্ধু সিদ্ধার্থ




সুশান্ত সিং রাজপুত আত্মহত্যা করেছেন? সাস্পিসিয়াসনেস বলে হত্যাওতো হতে পারে!
সুশান্ত সিং রাজপুত আত্মহত্যা করেছেন? সাস্পিসিয়াসনেস বলে হত্যাওতো হতে পারে!

‘গলায় বে’ল্টের ফাঁ’স দিয়ে সুশান্তকে মে’রেছে বন্ধু সিদ্ধার্থ’

সুশান্ত সিং রাজপুতকে শ্বা’সরো’ধ করে খু’ন করা হয়েছে আর সেটি করেছে তার বন্ধু পাঠানি। ঠিক এমনটি দা’বি করছেন সুশান্তের বাবার আ’ইনজীবী বিকাশ সিংহ। বুধবার (১২ আগস্ট) সংবাদ সংস্থার দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘একজন অ’পরা’ধী হিসাবে সিদ্ধার্থ খুবই ধূর্ত এবং বুদ্ধিমান।’

বিকাশ সিংহ এই দাবির পক্ষে অনেকগুলো যুক্তিও উপস্থাপন করেছেন। ওই দিন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি সুশান্তের মৃতদেহের ছবি দেখেছি। আমাদের এ ব্যাপারে কোন স’ন্দে’হ নেই যে তাকে গলায় বেল্টের ফাঁ’স দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। কারণ, মৃ’ত সুশান্তের গলায় যে কাপড় জড়ানো ছিলো সেই কাপড় থেকে গলায় এতো গভীর ক্ষ’তচিহ্ন হতে পারে না।’

আ’ইনজীবীর দা’বি, ‘সিদ্ধার্থই এই কাজ করেছে। ঘটনার সময়ে একমাত্র সেই ছিলো সুশান্তের ফ্ল্যাটে।’

পুলিশের কাছে দেওয়া জ’বানব’ন্দিতে সিদ্ধার্থ জানিয়েছিলেন যে, সুশান্তের মৃ’ত্যুর সময়ে তিনি ফ্ল্যাটের অন্য ঘরে ছিলেন।

আ’ইনজীবী আরও দা’বি করেন, ‘সুশান্তের মৃ’ত্যুর পরে সিদ্ধার্থ প্রয়াত অভিনেতার পরিবারের সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করছিলেন। তাদের নিয়মিত খোঁজ-খবরও নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সুশান্তের বাবা কে কে সিং ঘটনার এফআইআর দায়ের করার পরেই সিদ্ধার্থের ব্যবহার পাল্টে যেতে শুরু করে। তারপর থেকেই তিনি রিয়াকে সাহায্য করা শুরু করেন।’

সুশান্তের বাবা অবশ্য এফআইআরে সিদ্ধার্থের নাম উল্লেখ করে কোন অ’ভিযো’গ করেননি।

সুশান্তের বাবার ‘দ্বিতীয় বিবাহ’ নিয়ে গতকাল শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত কুরুচিকর মন্তব্য করলে পরের দিন সুশান্তের পরিবারের পক্ষ থেকে ৯ পাতার একটি দীর্ঘ চিঠি প্রকাশ করা হয়। হিন্দি ভাষায় লেখা এই চিঠিটিতে বলা হয়েছে, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা সুশান্তের সঙ্গে কখনওই তার পরিবারের শি’কড় ছিন্ন হয়নি। নীরজ কুমার বাবলু নামে সুশান্তের এক আত্মীয় সঞ্জয় রাউতকে এক আ’ইনি নো’টিশ পাঠিয়ে দাবি করে বলেন, ‘সঞ্জয়কে প্র’কাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে তা না হলে তার বি’রুদ্ধে মা’নহা’নির মা’ম’লা করা হবে।’

এর আগে, সুশান্তের মৃ’তদে’হ নিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সচালক বলেন, অজানা নম্বর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩শ বারেরও বেশি ফোন আসছে। প্রতিটি ফোনেই কে বা কারা তাকে অ’শ্লী’ল ভাষায় গা’লিগা’লাজ করছেন।

তিনি দা’বি করেন, আ’ত্মহ’ত্যায় মৃ’ত্যু হয়েছে এমন বহু দেহ তিনি দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তার ধারণা, আ’ত্মহ’ত্যা নয়, খু’নই করা হয়েছে সুশান্তকে।

অন্তর্জাল

সুশান্ত সিং রাজপুত আত্মহত্যা করেছেন? সাস্পিসিয়াসনেস বলে হত্যাওতো হতে পারে! বলিউড সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি?

‘দ্য গ্লোরিয়াস আনসার্টেনিটি’ কথাটা উঠলেই ধরে নিতে হয় ক্রিকেট। বাংলা ধারাভাষ্যকাররা ভুল মানে করে বলে- ‘গৌরবময় অনিশ্চয়তা’। ইন্ট্রোতে এটা বলে নিচ্ছি; কারণ দৃশ্যত ক্রিকেটের চেয়েও ‘গ্লোরিয়াস আনসার্টেনির্টি’ মানে হওয়া উচিৎ- বলিউড। ‘আমচি মুম্বাই’! বহুল প্রচলিত- […]

 ‘মায়া নাগরী’। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বস্তি। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।
সেখানকার তরুণ নায়ক সুশান্ত সিং রাজপুত আত্মহত্যা করেছেন। বিশ্বজুড়ে খবর- ‘তিনি আত্মহত্যা করেছেন’। সাস্পিসিয়াসনেস বলে হত্যাও তো হতে পারে! বলিউড সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি? বলতে গেলে কিসসু না। বড় জোর ২০-২৫ ভাগ খবর জানতে পারি।
কেউ কি জানতেন, কিশোর কুমার মধুবালাকে বিয়ে করে মুসলমান হয়েছিলেন? না। জানতেন না। লীনা চন্দ্রভাকর ছিলেন তার ৪ নম্বর স্ত্রী এবং ফের হিন্দু হয়ে তাকে বিয়ে করেছিলেন!
যাকগে। সুশান্ত সিং প্রসঙ্গে থাকি। একবাক্যে সবাই বলছেন- এমন ব্রাইট ক্যারিয়ার, এমন প্রিভিলেজড ফ্যামিলির ছেলে, এমন সোসাল স্টাবিলিটি নিয়ে মাত্র ৩৪ বছরে কেন একটা ছেলে স্যুইসাইড করবে?
যদি ধরেও নিই তিনি স্যুইসাইড করেছেন, তাহলে তার আগে বলা বিশেষণগুলোর দরকার করে না। রাগে-ঘেন্নায়-কষ্টে বাঁচতে ভালো লাগেনি, মারা গেছেন। ব্যাস। আর যদি হত্যা করে ঝুলিয়ে স্যুইসাইড বলে চালিয়ে দেয়া হয় সেটা ভিন্ন কথা। অমন ঘটনাও দশ-এগারটা আছে! তাদের কারও কারও বয়স ৩০এরও কম!
তার আগে সুশান্তর চেয়ে বিখ্যাত কিছু মানুষের আত্মহত্যার খবর দিই-
১। বিবেক বাবাজী। মডেল। অরিজিন মরিশাস-এর। কামসূত্র কনডমের এড করে বিখ্যাত। ১৯৯৩ সালে মিস মরিশাস ওয়ার্ল্ড।
২। প্রত্যুশা ব্যানার্জী। টিভি আর্টিস্ট। মাত্র ৩২ বছরে মারা যান।
৩। ফাতাফাত জয়লক্ষ্ণী। মালায়ালম এই নায়িকা মাত্র ২২ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন।
৪। নাফিসা জোসেফ। একে অনেকেরই মনে থাকার কথা। MTV র জকি ছিলেন। ১৯৯৭ মিস ইন্ডিয়া ফেমিনিস্ট, এবং মিস ইউনিভার্স ফাইনালিস্ট ১৯৯৭।
৫। শিখা জোশী। মডেল। টিভি আর্টিস্ট। ৩০ পার হওয়ার আগেই।
৬। কন্নড় নায়িকা কল্পনা। খ্যাতির শিখরে থাকা অবস্থায় মারা যান।
৭। জিয়াহ খান। ব্রিটিশ-আমেরিকান-ইন্ডিয়ান গায়িকা-নায়িকা, এর কথা সবারই মনে থাকার কথা। ‘নিঃশব্দ’ ছবিতে অমিতাভের বিপরীতে দুর্দান্ত অভিনয়। এরও ৩০ পার হলো না।
৮। মঞ্জুলা দেবী।
৯। ময়ূরী বালা।
১০। মোনাল নাভাল।
১১। প্রত্যাশা। তেলেগু আর্টিস্ট।
১২। প্রেমা। মালায়ালম।
১৩। কুলজিৎ রান্ধোয়া। অনিন্দ সুন্দরী সুপার মডেল। কোনো কিছুরই অভাব ছিল না।
১৪। সোভা বা মহালক্ষ্ণী মেমন। মালায়ালম নায়িকা।
১৫। সিল্ক স্মিতা। ‘সাদমা’ ছবিতে কমল হাসান-শ্রীদেবীর সঙ্গে ছিলেন। সে সময় তামিল ছবিতে তাকে ‘বম্বশেল’ বলা হতো।
১৬। বিশ্বনাভী। তামিল নায়িকা।
১৭। বিজয়াশ্রী। তামিল, কন্নড়, মালায়ালম অভিনেত্রী।
১৮। নিতিন কাপুর। ২৫ এর নিচে।
১৯। উদয় সিং। ৩০ পুরো হওয়ার আগেই।
২০। কুনাল সিং। ৩৫ বছরে।
এই তালিকায় আরও ডজনখানেক নাম আছে। থাক সেসব। এর মধ্যে সবচেয়ে শকিং স্যুইসাইড ছিল গুরু দত্তের। মূল নাম বসন্ত কুমার শিবশংকর পাড়ুকোনে, ওরফে গুরু দত্ত। আরও একটি বিখ্যাত পরিচয়-তিনি মহান সংগীত শিল্পী গীতা দত্তের স্বামী। কী পরিচালনা, কী অভিনয়, কোথাও কোনোদিন পরাজিত হননি। শেষে এসে হেরে গেলেন জীবনের কাছে! তাদের দাম্পত্য জীবন এতটাই অসুখী ছিল যে তিনি বা গীতা দত্ত কেউ তাদের যাপিত জীবনকে ‘যাপন’ বলতে পারতেন না। বলতেন- ‘জিন্দা হু’!
এদেরই সর্বশেষ বলি হলেন সুশান্ত সিং রাজপুত? না। পারভীন ববি খুন হয়েছেন।
পরিচালক-প্রযোজক মনমোহন দেশাই খুন হয়েছিলেন।
ভীষণ জনপ্রিয় ‘ললিপপ গার্ল’ দিব্যা ভারতী খুন হয়েছিলেন। মাত্র ১৯৯৩ সালে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন।
এই ‘মায়া নাগরী’র অনেক ট্রাজিডি। আমাদের চোখের সামনে যে সব ‘স্বপ্নদেবী’ আর ‘স্বপ্নপুরুষ’ গেঁথে রয়েছেন তাদের কারও কারও জীবন এতটাই দুঃখ-কষ্টের যা আমরা কল্পনাতেও হয়ত আনতে পারব না। মমতাজ জাহান দাহলভী ওরফে মধুবালার মত সর্বগুনে গুনান্বিত নায়িকা বলিউডের ইতিহাসে আগেও ছিল না, এখনও নেই, হয়ত ভবিষ্যতেও আর আসবে না। এক ‘প্যায়ার কিয়া তো ডারনা ক্যায়া হ্যায়’ গানে ১৮ কলা আর মুদ্রা দিয়ে দিয়ে সাড়ে সাত মিনিটের গানেই একটা উপন্যাস বলে দিয়েছিলেন! (আমি তাই মনে করি)। এই মানুষটিও মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা গেলেন! অসুখে মরে গেলেন। ভেতরে যদিও অনেক না-বলা কথা রয়েছে। সে সব আর এক দিন।
সুশান্ত সিং রাজপুত; জিনা ইসিকা নাম হ্যায় ইয়ারো। জিনা হ্যায় তো শের কি তারাহ জিও, আউর নেহি তো জিনাকি পিছে ফুলস্টপ লাগা দো। আলবিদা। …………………………………………………………………………..Collected from Monjurul Haque timeline.




Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*